01. Discuss the ‘corrupt practices’ for the purpose of the Representation of the People Act, 1951. Analyze whether the increase in the assets of the legislators and/or their associates, disproportionate to their known sources of income, would constitute ‘undue influence’ and consequently a corrupt practice. (Answer in 150 words) – 10 marks
জন প্রতিনিধিত্ব আইন (RPA), ১৯৫১-এর ১২৩ নং ধারা অনুযায়ী, 'দুর্নীতিমূলক কাজ' হিসেবে ঘুষ, অনুচিত প্রভাব এবং ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে শত্রুতা প্রচার করাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি রায় দিয়েছে যে বিধানসভায় ভোট বা ভাষণের জন্য ঘুষ গ্রহণকারী বিধায়কদের আইনি প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে না, যা দুর্নীতিবিরোধী মানদণ্ডকে শক্তিশালী করেছে।
নির্বাচনের পর বিধায়কদের আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ বৃদ্ধিকে RPA-এর অধীনে দুর্নীতিমূলক কাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। তবে, এটি দুর্নীতি দমন আইনের অধীনে বিচার্য দুর্নীতির একটি সূচক। এই ধরনের অবৈধ সম্পদ "অর্থের শক্তি" হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে পরবর্তী নির্বাচনে 'অনুচিত প্রভাব' বিস্তারের জন্য কাজে লাগানো হতে পারে, যা ১২৩(২) ধারা অনুযায়ী একটি দুর্নীতিমূলক কাজ। এই ধরনের প্রভাব ভোটারদের নির্বাচনী অধিকারের অবাধ প্রয়োগে হস্তক্ষেপ করে। সুতরাং, যদিও সম্পদ আহরণ অন্য আইনের অধীনে বিচার্য, নির্বাচনী লাভের জন্য এর ব্যবহার RPA-এর অধীনে একটি দুর্নীতিমূলক কাজ বলে গণ্য হবে।
02. Comment on the need of administrative tribunals as compared to the court system. Assess the impact of the recent tribunal reforms through rationalization of tribunals made in 2021. (Answer in 150 words) – 10
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, ৩২৩এ এবং ৩২৩বি ধারার অধীনে প্রতিষ্ঠিত আধা-বিচারবিভাগীয় সংস্থা। এগুলি পরিষেবা এবং পরিবেশগত বিষয়ে দ্রুত, স্বল্পব্যয়ী এবং বিশেষায়িত বিচার প্রদানের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের উপর মামলার বোঝা কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এগুলি কঠোর দেওয়ানি কার্যবিধির পরিবর্তে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়, যা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়তা করে।
২০২১ সালের ট্রাইব্যুনাল সংস্কার আইনটি, কিছু আপিল ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত করে এবং তাদের কাজ হাইকোর্টে স্থানান্তর করে যৌক্তিকীকরণের লক্ষ্যে আনা হয়েছিল। কিন্তু এই সংস্কার ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যের বিপরীতে হাইকোর্টের কাজের চাপ বাড়ানোর জন্য সমালোচিত হয়েছে। এছাড়াও, এই আইনটি সদস্যদের মেয়াদ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত সেই বিধানগুলি পুনঃপ্রবর্তন করেছে, যা পূর্বে সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করার কারণে বাতিল করেছিল। সুতরাং, এই সংস্কারগুলি বিতর্কিত এবং এটি ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার সুবিধাগুলিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
03. Compare and contrast the President’s power to pardon in India and in the USA. Are there any limits to it in both the countries? What are ‘preemptive pardons’? (Answer in 150 words) – 10
ভারতে, রাষ্ট্রপতির সংবিধানের ৭২ নং ধারা অনুযায়ী ক্ষমাদানের ক্ষমতা মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শে প্রযুক্ত হয়, যেখানে মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত, বিবেচনামূলক কর্তৃত্ব। ভারতীয় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার পরিধি রাজ্যপালের চেয়ে ব্যাপক, যা মৃত্যুদণ্ড ও কোর্ট-মার্শালের রায়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। বিপরীতভাবে, মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রায় চূড়ান্ত হলেও তা শুধুমাত্র ফেডারেল অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং ইমপিচমেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ভারতে এর সীমারেখা হল মন্ত্রিসভার পরামর্শ এবং বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা (স্বেচ্ছাচারিতা বা অসৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হলে)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, এই ক্ষমতা শুধুমাত্র ইমপিচমেন্ট এবং রাজ্যের অপরাধের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ।
'প্রি-এম্পটিভ পার্ডন' (পূর্বemptive ক্ষমা) মার্কিন ব্যবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য, যা কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত করার আগেই প্রদান করা হয়। এটি ফেডারেল অপরাধের উপর রাষ্ট্রপতির ব্যাপক সাংবিধানিক ক্ষমতা থেকে উদ্ভূত।
04. Discuss the nature of Jammu and Kashmir Legislative Assembly after the Jammu and Kashmir Reorganization Act, 2019. Briefly describe the powers and functions of the Assembly of the Union Territory of Jammu and Kashmir. (Answer in 150 words) – 10
জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন, ২০১৯-এর পর, পূর্বতন রাজ্যটিকে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, দিল্লি এবং পুদুচেরির মতো, একটি পাঁচ বছরের মেয়াদ সহ বিধানসভা যুক্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে, নির্বাচিত মোট আসনের সংখ্যা ১০৭ থেকে বাড়িয়ে ১১৪ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে (২৪টি আসন পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য সংরক্ষিত)। লেফটেন্যান্ট-গভর্নর (L-G) পাঁচজন সদস্যকে মনোনীত করার ক্ষমতা রাখেন: কাশ্মীরি অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে দুজন (একজন মহিলা) এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে একজন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি।
বিধানসভা রাজ্য এবং যুগ্ম তালিকার বিষয়গুলিতে আইন প্রণয়ন করতে পারলেও, 'জনশৃঙ্খলা' এবং 'পুলিশ' এর এখতিয়ার থেকে বাদ দেওয়ায় এর ক্ষমতা সীমিত। এই বিষয়গুলি এবং সর্বভারতীয় পরিষেবাগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের প্রতিনিধি, লেফটেন্যান্ট-গভর্নরের হাতে ন্যস্ত রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
05. “The Attorney General of India plays a crucial role in guiding the legal framework of the Union Government and ensuring sound governance through legal counsel.” Discuss his responsibilities, rights and limitations in this regard. (Answer in 150 words) – 10
ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল (AG), সংবিধানের ৭৬ নং ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতির দ্বারা প্রেরিত আইনি বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর প্রধান দায়িত্ব। কেবল সরকারের জন্য মামলা জেতা নয়, জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও তাঁর কর্তব্য।
অধিকার: সংসদের উভয় কক্ষের কার্যক্রমে ভোটদানের অধিকার ছাড়াই অংশ নেওয়ার বিশেষাধিকার এবং ভারতের সমস্ত আদালতে সওয়াল করার অধিকার তাঁর অধিকারগুলির মধ্যে অন্যতম। সংসদ সদস্যের জন্য উপলব্ধ সমস্ত অনাক্রম্যতা তিনি ভোগ করেন।
সীমাবদ্ধতা: তিনি রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর পদে অধিষ্ঠিত থাকেন, যা রাজনৈতিক নির্ভরতা বোঝায়। তিনি ব্যক্তিগত আইন অনুশীলন করতে পারলেও, ভারত সরকারের বিরুদ্ধে পরামর্শ বা মামলা পরিচালনা করতে পারেন না, যা স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধ করে।
06. Women’s social capital complements in advancing empowerment and gender equity. Explain. (Answer in 150 words) – 10
স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) এবং সমবায় সমিতির মতো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নির্মিত নারীদের সামাজিক মূলধন, ক্ষমতায়ন এবং লিঙ্গ সমতা বৃদ্ধিতে একটি শক্তিশালী পরিপূরক হিসাবে কাজ করে। এই গোষ্ঠীগুলি ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজারের সুযোগ উন্নত করে আর্থিক স্বাধীনতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক হয়। উদাহরণস্বরূপ, গ্রামীণ নারীদের ব্যবসা শুরু করতে এবং সম্পদ তৈরিতে SHG গুলি একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে।
সামাজিকভাবে, এই নেটওয়ার্কগুলি পরিবারের মধ্যে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং পিতৃতান্ত্রিক নিয়ম ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। রাজনৈতিকভাবে, এই সম্মিলিত শক্তি প্রায়শই পঞ্চায়েতের মতো স্থানীয় প্রশাসনে নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে রূপান্তরিত হয়। এখানে, নারী নেতারা পানীয় জল এবং স্যানিটেশনের মতো সামাজিক প্রয়োজনগুলিকে অগ্রাধিকার দেন। নারীদের সম্মিলিত কণ্ঠকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে, সামাজিক মূলধন লিঙ্গ সমতার পথে কাঠামোগত বাধাগুলি দূর করে এবং একটি ন্যায্য সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
07. E-governance projects have a built-in bias towards technology and back-end integration than user-centric designs. Examine. (Answer in 150 words) – 10
ই-গভর্নেন্স প্রকল্পগুলির লক্ষ্য হল দক্ষ এবং স্বচ্ছ প্রশাসন, কিন্তু তাদের নকশা প্রায়শই ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক পদ্ধতির চেয়ে প্রযুক্তি এবং ব্যাক-এন্ড ইন্টিগ্রেশনের দিকে বেশি পক্ষপাতদুষ্ট।
এই প্রকল্পগুলির প্রধান লক্ষ্য হল কেন্দ্রীভূত ডেটাবেস এবং স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম তৈরি করা। উদাহরণস্বরূপ, MGNREGS-এর জন্য আধার-ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম (ABPS) এবং সরকারি ক্রয়ের জন্য গভর্নমেন্ট ই-মার্কেটপ্লেস (GeM) প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য প্রক্রিয়াগুলিকে একীভূত করে।
তবে, এই প্রযুক্তিগত পক্ষপাতিত্ব শেষ ব্যবহারকারীর চাহিদা উপেক্ষা করে। ডিজিটাল বিভাজন এবং ডিজিটাল নিরক্ষরতা, বিশেষত গ্রামীণ এলাকায়, পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করে। অনেক প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র ইংরেজি এবং হিন্দিতে উপলব্ধ। MGNREGS-এ ডিজিটাল উপস্থিতি (NMMS)-এর মতো প্রযুক্তিগত সরঞ্জামগুলি শ্রমিকদের বাদ দেওয়ার জন্য একটি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা মজুরি প্রদানে সমস্যা তৈরি করেছে। ই-গভর্নেন্সের সাফল্যের জন্য, প্রযুক্তি-চালিত মডেল থেকে ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন করা অপরিহার্য, যা সকলের জন্য পরিষেবা সহজলভ্য করে তুলবে।
08. Civil Society Organizations are often perceived as being anti-State actors than non-State actors. Do you agree? Justify. (Answer in 150 words) – 10
হ্যাঁ, সুশীল সমাজ সংগঠনগুলিকে (CSOs) নিরপেক্ষ 'বেসরকারি' সংগঠনের চেয়ে 'রাষ্ট্র-বিরোধী' হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ছে। তবে, এই দৃষ্টিভঙ্গি তাদের গণতান্ত্রিক ভূমিকার সরলীকরণ করে।
CSO-গুলিকে রাষ্ট্র-বিরোধী হিসেবে দেখার ধারণাটি মূলত সরকারি নীতির উপর তাদের প্রহরী (watchdog) ভূমিকা থেকে উদ্ভূত হয়। যখন CSOs শাসনের ত্রুটি তুলে ধরে, পরিবেশগত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রচার চালায় বা মানবাধিকারের পক্ষে সওয়াল করে, তখন তাদের প্রায়শই "রাষ্ট্রবিরোধী" এবং উন্নয়নের প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (FCRA)-এর মতো নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ব্যবহার করে সমালোচক সংগঠনগুলির লাইসেন্স বাতিল করার মাধ্যমে সরকার তাদের "দেশ ধ্বংসকারী" বিদেশি শক্তির চর হিসেবে চিত্রিত করে, যা এই 'রাষ্ট্র-বিরোধী' ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে। বিতর্কিত বিষয়ে ভিন্নমত এবং প্রতিবাদ সংগঠিত করা এই ধারণাকে আরও বাড়িয়ে তোলে যে তারা নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
কিন্তু, মৌলিকভাবে CSOs একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য বেসরকারি সংগঠন। তারা জনকল্যাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রে সরকারি প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং সচেতনতা তৈরি করে। তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হয়ে এবং ভিন্নমতের জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করে "সামাজিক সুরক্ষা ভালভ" (social safety-valve) হিসেবে কাজ করে, যা রাষ্ট্রকে দুর্বল করার পরিবর্তে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। তাদের বিরোধিতা সাধারণত নির্দিষ্ট সরকারি নীতির বিরুদ্ধে হয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়।
সুতরাং, এই ধারণাটি একটি সংকুচিত নাগরিক পরিসরের ফল, যেখানে রাষ্ট্রকে জবাবদিহি করার প্রচেষ্টাকে প্রায়শই রাষ্ট্র-বিরোধিতা হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়।
09. India-Africa digital partnership is achieving mutual respect, co-development and long-term institutional partnerships. Elaborate. (Answer in 150 words) – 10
ভারত-আফ্রিকা ডিজিটাল অংশীদারিত্ব সত্যিই পারস্পরিক সম্মান, সহ-উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের উপর ভিত্তি করে একটি মডেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা ঐতিহ্যবাহী দাতা-গ্রহীতা সম্পর্ক থেকে সরে এসে একটি সহযোগিতামূলক দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা কাঠামোকে প্রতিফলিত করে।
পারস্পরিক সম্মান এবং সহ-উন্নয়ন: ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তার সফল ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) যেমন UPI এবং আধার-ভিত্তিক সিস্টেমকে (MOSIP) বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে না দেখে একটি ডিজিটাল পাবলিক গুড হিসেবে ভাগ করে নেওয়ার উপর ভিত্তি করে গঠিত। এই চাহিদা-ভিত্তিক মডেলটি নামিবিয়া, ঘানা এবং টোগোর মতো আফ্রিকান দেশগুলিকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি গ্রহণ ও সহ-উন্নয়ন করতে সক্ষম করে, যা আত্মনির্ভরশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মানকে উৎসাহিত করে। এই অংশীদারিত্ব স্থানীয় সক্ষমতা তৈরি এবং সমান অংশীদারিত্বের উপর জোর দেয়, যা আফ্রিকায় প্রশংসিত হয়।
দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব: এই সহযোগিতা প্রযুক্তি হস্তান্তরের বাইরে গিয়ে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ তৈরি করছে। প্যান-আফ্রিকান ই-নেটওয়ার্ক প্রকল্প (e-VBAB) টেলি-শিক্ষা ও টেলি-মেডিসিনের জন্য ভারতীয় এবং আফ্রিকান বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলিকে সংযুক্ত করে জ্ঞান বিনিময়ের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ভারত-নামিবিয়া তথ্যপ্রযুক্তি উৎকর্ষ কেন্দ্র এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের স্থায়ী জি-২০ সদস্য পদের জন্য ভারতের সফল সওয়ালের মতো উদ্যোগগুলি এই দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তিশালী করে। এটি আফ্রিকাকে বিশ্বব্যাপী শাসন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করে একটি যৌথ ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করছে।
10. “With the waning of globalization, post-Cold War world is becoming a site of sovereign nationalism.” Elucidate. (Answer in 150 words) – 10
ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী যুগ, যা একসময় অতি-বিশ্বায়ন এবং একমেরু কেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা দ্বারা সংজ্ঞায়িত ছিল, তা এখন সার্বভৌম জাতীয়তাবাদ দ্বারা প্রভাবিত একটি নতুন যুগে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি বিশ্বায়নের অবক্ষয়ের ফলে ঘটছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ক্রমবর্ধমান মার্কিন-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো ভূ-রাজনৈতিক সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে খণ্ডিত করেছে, যা দেশগুলিকে পারস্পরিক নির্ভরতা থেকে সরে এসে স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করেছে। বিশ্বায়নের প্রাক্তন সমর্থকরা এখন অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ এবং সংরক্ষণবাদী নীতি গ্রহণ করছে, যা নয়া-উদারনৈতিক ঐকমত্যকে উল্টে দিচ্ছে। এছাড়া, বিশ্বায়নের সুবিধার অসম বণ্টন বিশ্বজুড়ে জনতুষ্টিবাদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
সার্বভৌম জাতীয়তাবাদের এই পুনরুত্থান 'জাতীয় স্বার্থ', কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের আগ্রাসী অনুসরণের মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। রাষ্ট্রগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে একতরফাবাদ, আঞ্চলিক জোট গঠন এবং বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে বিশ্ব একটি আরও মেরুকৃত, বহুমেরু কেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে জাতি-রাষ্ট্র তার প্রাধান্য পুনরুদ্ধার করছে।
11. “Constitutional morality is the fulcrum which acts as an essential check upon the high functionaries and citizens alike…”
In view of the above observation of the Supreme Court, explain the concept of constitutional morality and its application to ensure balance between judicial independence and judicial accountability in India. (Answer in 250 words) – 15
সাংবিধানিক নৈতিকতা বলতে সংবিধানের মূল নীতি এবং মূল্যবোধের প্রতি আনুগত্যকে বোঝায়, যা রাষ্ট্র, তার কর্মকর্তা এবং নাগরিকদের কার্যকলাপকে পরিচালিত করবে। এটি সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি একটি পরম শ্রদ্ধা, যা ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আত্মসংযম এবং জনপ্রিয় বা সংখ্যাগরিষ্ঠ নৈতিকতার ঊর্ধ্বে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্বের মতো আদর্শের প্রতি প্রতিশ্রুতি দাবি করে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি একটি "সাংবিধানিক সংস্কৃতি"-র উপর ভিত্তি করে "সংবিধানের নৈতিক মূল্যবোধ" বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের উপর দায়িত্ব আরোপ করাকে বোঝায়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় এর প্রয়োগ:
সাংবিধানিক নৈতিকতা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য দুটি স্তম্ভ—বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগীয় জবাবদিহিতা—এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি fulcrum বা অবলম্বন হিসাবে কাজ করে।
১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, যা সংবিধানের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য, দাবি করে যে বিচারপতিরা নির্বাহী বা আইনসভার চাপ থেকে মুক্ত হয়ে ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই কাজ করবেন। সাংবিধানিক নৈতিকতা ক্ষমতার এই পৃথকীকরণকে বাধ্যতামূলক করে যাতে বিচার বিভাগ সংবিধান এবং মৌলিক অধিকারের চূড়ান্ত অভিভাবক হিসাবে কাজ করতে পারে। জাতীয় বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন (NJAC) আইন বাতিল করার সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি সাংবিধানিক নৈতিকতার একটি প্রয়োগ ছিল। আদালত যুক্তি দিয়েছিল যে বিচার বিভাগীয় নিয়োগে নির্বাহীর প্রাধান্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ, যা একটি আপোষহীন সাংবিধানিক মূল্যবোধ।
২. বিচার বিভাগীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: স্বাধীনতা অত্যাবশ্যক হলেও, সাংবিধানিক নৈতিকতা জবাবদিহিতাও দাবি করে যাতে এটি বিচার বিভাগীয় আধিপত্যে পরিণত না হয়। বিচারপতিরা, সাংবিধানিক पदाधिकारी হিসাবে, সংবিধান এবং তার মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য তাদের শপথ দ্বারা আবদ্ধ। তাদের আচরণ অবশ্যই বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার উপর জনগণের বিশ্বাসকে পুনরায় নিশ্চিত করবে। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত পদ্ধতি, ‘বিচার বিভাগীয় জীবনের মূল্যবোধের পুনর্বহাল’ (১৯৯৭), এবং ব্যাঙ্গালোর বিচার বিভাগীয় আচরণের নীতি (২০০২)-এর মতো প্রক্রিয়াগুলি সাংবিধানিক নৈতিকতায় নিহিত জবাবদিহিতার সরঞ্জাম। এগুলি নিশ্চিত করে যে বিচারপতিদের অসদাচরণের জন্য এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহি করানো হয় যা বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং দায়মুক্তি দেয় না।
এইভাবে, সাংবিধানিক নৈতিকতা নিশ্চিত করে যে স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ নয় এবং জবাবদিহিতা নির্বাহীর নিয়ন্ত্রণের একটি হাতিয়ার হয়ে ওঠে না, যার ফলে বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা এবং ভারসাম্য বজায় থাকে।
12. Indian Constitution has conferred the amending power on the ordinary legislative institutions with a few procedural hurdles. In view of this statement, examine the procedural and substantive limitations on the amending power of the Parliament to change the Constitution. (Answer in 250 words) – 15
ভারতীয় সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল, যা সংসদকে সংবিধানের 368 নং ধারার অধীনে সংশোধনের ক্ষমতা প্রদান করে। এটি নমনীয়তা এবং কঠোরতার এক অনন্য মিশ্রণ তৈরি করে। এই ক্ষমতা নিরঙ্কুশ নয়; এটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিগত প্রয়োজনীয়তা এবং বিচার বিভাগীয় ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিকশিত মৌলিক সীমাবদ্ধতা দ্বারা পরিবেষ্টিত।
পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা: 368 নং ধারায় সংবিধান সংশোধনের জন্য তিনটি ভিন্ন পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা হয়েছে:
সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে: 368 নং ধারার আওতার বাইরে থাকা কিছু বিধান, যেমন নতুন রাজ্য গঠন, সাধারণ আইনের মতোই সংসদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংশোধন করা যায়।
বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে: বেশিরভাগ সাংবিধানিক বিধানের জন্য বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন—প্রতিটি কক্ষের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এটি মৌলিক অধিকার এবং নির্দেশমূলক নীতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও রাজ্যের অনুসমর্থন দ্বারা: যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে প্রভাবিত করে এমন সংশোধনের জন্য সংসদে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি কমপক্ষে অর্ধেক রাজ্য বিধানসভার অনুসমর্থন প্রয়োজন।
মৌলিক সীমাবদ্ধতা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সীমাবদ্ধতা হলো 'মৌলিক কাঠামো' তত্ত্ব, যা সুপ্রিম কোর্ট কেশবানন্দ ভারতী মামলায় (1973) প্রতিষ্ঠা করেছিল।
এই তত্ত্ব অনুযায়ী, সংসদের সংশোধন ক্ষমতা চূড়ান্ত নয়; এটি সংবিধানের 'মৌলিক কাঠামো' বা অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যগুলিকে পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে ব্যবহার করা যাবে না।
সংসদ সংবিধানের একটি 'সൃഷ്ടি' হওয়ায়, এটি তার 'প্রভু' হতে পারে না। যে কোনো সংশোধনী যা এই মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার অধীন এবং অসাংবিধানিক বলে ঘোষিত হতে পারে।
যদিও সম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত নয়, মৌলিক কাঠামোর মধ্যে সংবিধানের আধিপত্য, ধর্মনিরপেক্ষতা, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার মতো নীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই পদ্ধতিগত বাধা এবং মৌলিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করে যে সাংবিধানিক সংশোধনগুলি একটি ব্যাপক ঐকমত্যকে প্রতিফলিত করে এবং গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের মূল আদর্শকে অক্ষুণ্ণ রাখে, এবং সংবিধানের सर्वोच्चতা বজায় রাখে।
13. Discuss the evolution of collegium system in India. Critically examine the advantages and disadvantages of the system of appointment of the Judges of the Supreme Court of India and that of the USA. (Answer in 250 words) – 15
ভারতে কলেজিয়াম ব্যবস্থা, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের একটি অনন্য পদ্ধতি, যা সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে। এটি নির্বাহী প্রাধান্যের থেকে বিচার বিভাগীয় প্রাধান্যের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।
কলেজিয়াম ব্যবস্থার বিবর্তন: প্রাথমিকভাবে, সংবিধানের ১২৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল, যা প্রথম বিচারপতি মামলায় (১৯৮১) নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু, দ্বিতীয় (১৯৯৩) এবং তৃতীয় (১৯৯৮) বিচারপতিদের মামলা "পরামর্শ" শব্দটিকে "সম্মতি" হিসাবে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে এবং কলেজিয়াম প্রতিষ্ঠা করে—এটি ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং প্রবীণতম বিচারপতিদের একটি সংস্থা, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়। এটিকে জাতীয় বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন (NJAC) দ্বারা প্রতিস্থাপনের একটি সংসদীয় প্রচেষ্টা, যা নির্বাহীকে ভূমিকা দিয়েছিল, ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দেয়, কারণ এটি সংবিধানের মূল কাঠামো, অর্থাৎ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য হুমকি ছিল।
নিয়োগ পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
ভারত (কলেজিয়াম ব্যবস্থা):
সুবিধা: এর প্রধান শক্তি হল নির্বাহী হস্তক্ষেপ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা। এটি সংবিধানের মূল কাঠামোর অংশ হিসাবে বিবেচিত হয়। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার নির্বাহী প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল।
অসুবিধা: এই ব্যবস্থাটি তার অস্বচ্ছতা, স্বচ্ছতার অভাব এবং জবাবদিহিতার জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ প্রায়শই ওঠে, এবং কেউ কেউ এটিকে "স্বজনপ্রীতির প্রতিশব্দ" বলে থাকেন। উপরন্তু, কলেজিয়ামের সুপারিশ অনুমোদনে নির্বাহীর নিষ্ক্রিয়তা প্রায়শই উল্লেখযোগ্য বিলম্বের কারণ হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (রাষ্ট্রপতি দ্বারা নিয়োগ):
সুবিধা: রাষ্ট্রপতি সেনেটের অনুমোদনের মাধ্যমে বিচারপতি নিয়োগ করেন, যা নির্বাচিত শাখাগুলির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। ফেডারেল বিচারপতিরা "সৎ আচরণের" ভিত্তিতে আজীবন পদে থাকেন।
অসুবিধা: এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত রাজনৈতিকীকরণের শিকার হতে পারে, যেখানে নিয়োগগুলি শুধুমাত্র যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় মতাদর্শকে প্রতিফলিত করে, যা আইন প্রণয়নে অচলাবস্থার সৃষ্টি করতে পারে।
সংক্ষেপে, ভারতের ব্যবস্থা স্বচ্ছতার চেয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দেয়, যেখানে মার্কিন মডেল রাজনৈতিকীকরণের ঝুঁকির বিনিময়ে জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেয়, যা সাংবিধানিক শাসনে একটি মৌলিক বিতর্ককে তুলে ধরে।
14. Examine the evolving pattern of Centre-State financial relations in the context of planned development in India. How far have the recent reforms impacted the fiscal federalism in India? (Answer in 250 words) – 15
ভারতে কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক সম্পর্কের ধরণ পরিকল্পিত উন্নয়নের যুগ থেকে সাম্প্রতিক আর্থিক সংস্কারের পর্যায় পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বিবর্তিত হয়েছে, যা একটি কেন্দ্রীভূত কাঠামো থেকে আরও বিতর্কিত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
পরিকল্পিত উন্নয়নের সময় বিবর্তন: পরিকল্পিত উন্নয়নের যুগটি যোজনা কমিশনের দ্বারা প্রভাবিত ছিল, যা একটি অ-সাংবিধানিক সংস্থা এবং প্ল্যান গ্রান্ট ও কেন্দ্র-প্রযোজিত প্রকল্পগুলির (CSS) মাধ্যমে রাজ্যগুলিতে আর্থিক হস্তান্তরের একটি প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। এই মডেলটি কেন্দ্রীকরণকে উৎসাহিত করে, উন্নয়নমূলক তহবিলের জন্য রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল করে তোলে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য উল্লম্ব আর্থিক ভারসাম্যহীনতা (VFI) তৈরি করেছিল, যেখানে রাজ্যগুলির ব্যয়ের দায়িত্ব, বিশেষত সামাজিক খাতে, তাদের রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ছিল, যা কেন্দ্রের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।
সাম্প্রতিক সংস্কারের প্রভাব: সাম্প্রতিক সংস্কারগুলি আর্থিক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করেছে, একটি विरोधाभाসী পরিস্থিতি তৈরি করেছে:
বর্ধিত হস্তান্তর কিন্তু হ্রাসকৃত তহবিল: যোজনা কমিশন বিলোপ এবং ১৪তম ও ১৫তম অর্থ কমিশনের সুপারিশ মেনে বিভাজ্য তহবিলে রাজ্যগুলির অংশ ৪১%-এ বৃদ্ধি করা বৃহত্তর আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের দিকে একটি পদক্ষেপ ছিল। যাইহোক, অ-বিভাজ্য সেস এবং সারচার্জের উপর কেন্দ্রের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা এই বিভাজ্য তহবিলের আকার সঙ্কুচিত করেছে, যা রাজ্যগুলিকে মোট কর রাজস্বে তাদের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১-২২ সালে মোট কর রাজস্বে তাদের অংশ বেড়ে ২৬.৭% হয়েছে, যা ২০১১-১২ সালে ছিল ১০.৪%।
জিএসটি এবং হ্রাসকৃত রাজ্যের স্বায়ত্তশাসন: পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) বাস্তবায়ন, 'এক দেশ, এক বাজার' তৈরি করার পাশাপাশি, রাজ্যগুলির অনেক মূল পরোক্ষ করকে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের আর্থিক স্বায়ত্তশাসনকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। এটি কেন্দ্রীয় হস্তান্তর এবং জিএসটি ক্ষতিপূরণের উপর তাদের নির্ভরতা বাড়িয়েছে।
জবরদস্তিমূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার উত্থান: কেন্দ্র-প্রযোজিত প্রকল্পগুলি (CSS) রাজ্যগুলির কাছ থেকে ম্যাচিং তহবিলের প্রয়োজন দেখিয়ে রাজ্যের ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে চলেছে, প্রায়শই রাজ্য তালিকার বিষয়গুলিতে। উপরন্তু, কেন্দ্র তার নির্দেশাবলী না মানার জন্য তহবিল আটকে রাখার পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, যা সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অনেক রাজ্যের কাছে জবরদস্তিমূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা হিসাবে প্রতিভাত করেছে।
সংক্ষেপে, যদিও সংস্কারগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে আরও বেশি তহবিল হস্তান্তর করেছে, আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে কেন্দ্রের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ এটিকে আরও তীব্র করেছে, যা কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক সম্পর্ককে আরও জটিল এবং সংঘাতপূর্ণ করে তুলেছে।
15. What are environmental pressure groups? Discuss their role in raising awareness, influencing policies and advocating for environmental protection in India. (Answer in 250 words) – 15
পরিবেশগত চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Environmental pressure groups) হলো বেসরকারি, অলাভজনক সংস্থা বা নাগরিক সমাজের আন্দোলন, যাদের মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল না করে পরিবেশ সুরক্ষার পক্ষে জনমত এবং সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা। ভারতে, এই গোষ্ঠীগুলি পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তাদের ভূমিকা তিনটি প্রধান কার্যাবলীর অধীনে আলোচনা করা যেতে পারে:
সচেতনতা বৃদ্ধি: এই গোষ্ঠীগুলি প্রহরী হিসাবে কাজ করে এবং পরিবেশগত বিষয়গুলিকে জনসাধারণের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। তারা COP27-এর মতো বিশ্ব মঞ্চে প্রতিবাদ জানায় এবং মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের মাধ্যমে বন উজাড়, দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের হুমকির মতো সমস্যাগুলি তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, #DelhiTreeSoS-এর মতো নাগরিক সমাজের আন্দোলন গাছ কাটার বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করে। আবার 'পিপল ফর আরাবল্লিস'-এর মতো সংগঠনগুলি আঞ্চলিক পরিবেশগত সংকট তুলে ধরতে 'হরিয়ানা গ্রিন ম্যানিফেস্টো' তৈরি করে।
নীতি প্রভাবিত করা: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলি সরকারি প্রকল্প এবং নিয়মাবলী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে নীতি নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকে। গবেষণা এবং লবিংয়ের মাধ্যমে তারা ধ্বংসাত্মক উন্নয়নমূলক বয়ানকে চ্যালেঞ্জ করে এবং পরিবেশগত আইনের ফাঁকগুলি তুলে ধরে। সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ-এর মতো সংস্থাগুলি শহুরে বৃক্ষ আইনের অপর্যাপ্ততা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের অভাব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নীতি সংস্কারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে।
পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সওয়াল: এই গোষ্ঠীগুলির একটি প্রধান হাতিয়ার হলো বিচার বিভাগীয় সক্রিয়তা (judicial activism)। তারা প্রায়শই জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করে, যা সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (NGT) থেকে ঐতিহাসিক রায় এনে দিয়েছে এবং ভারতে পরিবেশগত আইনশাস্ত্রের পরিধি প্রসারিত করেছে। এছাড়া, স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র এবং জীবন-জীবিকার জন্য হুমকিস্বরূপ প্রকল্পগুলির বিরুদ্ধে তৃণমূল স্তরের সংহতি গড়ে তুলতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেমন এন্নোর ক্রিকের আদানি বন্দর সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে আন্দোলন।
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, উন্নয়ন এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং তৃণমূল গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এই গোষ্ঠীগুলি অপরিহার্য।
16. Inequality in the ownership pattern of resources is one of the major causes of poverty. Discuss in the context of ‘paradox of poverty’. (Answer in 250 words) – 15
'দারিদ্র্যের প্যারাডক্স', অর্থাৎ সম্পদ-সমৃদ্ধ অঞ্চলে উচ্চ দারিদ্র্যের উপস্থিতি, ভারতে একটি কঠিন বাস্তবতা। এই প্যারাডক্সের মূল কারণ হলো সম্পদের মালিকানার ধরণে গভীর বৈষম্য, যা সম্পদ ও সুযোগ মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত করে দারিদ্র্যকে স্থায়ী করে তোলে।
সম্পদের অসম মালিকানা দারিদ্র্যের একটি প্রধান কারণ। ভারতে এই বৈষম্য ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের চেয়েও ঐতিহাসিকভাবে বেশি। তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট সম্পদের ৮০.৭% সবচেয়ে ধনী ১০% মানুষের মালিকানায় রয়েছে। এই বৈষম্য কোনো ব্যক্তির জীবনকালে অর্জিত হয় না, বরং এটি একটি প্রজন্মগত উত্তরাধিকার, যা জাতপ্রথার মতো সামাজিক কাঠামো দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। জাতপাত ঐতিহাসিকভাবে জমি, শিক্ষা এবং পুঁজির মতো সম্পদের অধিকার নির্ধারণ করেছে, যা নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে অসুবিধায় ফেলেছে।
এই পদ্ধতিগত বৈষম্য দারিদ্র্যের প্যারাডক্সকে ব্যাখ্যা করে। ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ডের বনভূমির মতো ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলগুলো প্রায়শই সবচেয়ে সম্পদশালী হয়। যদিও এই অঞ্চলগুলো সম্পদ তৈরি করে, কিন্তু এর সুবিধা উচ্চ-আয়ের শহুরে গোষ্ঠীগুলোর দিকে ঝুঁকে থাকে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়, যারা এই সম্পদের উপর নির্ভরশীল, তারা বঞ্চিত হয়। এই বঞ্চনার মূলে রয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা বৈষম্য, যার কারণে দরিদ্রদের অধিকাংশই দলিত, আদিবাসী এবং বহুজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
এটি এক বিশাল জনগোষ্ঠীকে একটি 'অনিশ্চিত অঞ্চলে' আটকে রাখে—তারা চরম দারিদ্র্য থেকে কিছুটা উপরে উঠলেও, অসুস্থতা বা বেকারত্বের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানোর মতো সম্পদ না থাকায় আবার দারিদ্র্যে ফিরে যায়। সুতরাং, দারিদ্র্য কেবল আয়ের অভাব নয়, এটি সম্পদ, সক্ষমতা এবং পছন্দের একটি বহুমাত্রিক বঞ্চনা। এই চক্র ভাঙতে হলে, নীতিকে শুধুমাত্র আয় সহায়তার বাইরে গিয়ে অসম সম্পদ বণ্টনের কাঠামোগত সমস্যা সমাধানের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে।
17. “In contemporary development models, decision-making and problem-solving responsibilities are not located close to the source of information and execution defeating the objectives of development.” Critically evaluate. (Answer in 250 words) – 15
সমসাময়িক উন্নয়ন মডেলগুলিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমস্যা সমাধানের দায়িত্বগুলি তথ্য এবং বাস্তবায়নের উৎস থেকে দূরে অবস্থিত, যা উন্নয়নের উদ্দেশ্যগুলিকে ব্যর্থ করে দেয়—এই বিবৃতিটি প্রচলিত টপ-ডাউন (top-down) পদ্ধতির একটি অনেকাংশে সঠিক সমালোচনা। এই কেন্দ্রীভূত কাঠামো প্রায়শই অদক্ষ ফলাফল, পরিবেশগত ক্ষতি এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রান্তিকীকরণের দিকে পরিচালিত করে, যা টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির লক্ষ্যকে ক্ষুন্ন করে।
কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তার ব্যর্থতা: এই বিচ্ছিন্নতার প্রমাণ ভারতে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। লাদাখে, স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত উন্নয়ন সক্ষম করার লক্ষ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত পার্বত্য উন্নয়ন পরিষদ (AHDC) থাকা সত্ত্বেও, একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ মূলত শ্রীনগর এবং দিল্লির মতো দূরবর্তী কেন্দ্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রশাসন প্রায়শই লাদাখের বাইরের পরামর্শক সংস্থাকে পরিকল্পনার দায়িত্ব দেয়, যা স্থানীয় দক্ষতা এবং আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে। একইভাবে, ভারতে নগর পরিকল্পনা তার পুরোনো "মাস্টার প্ল্যান" এর উপর নির্ভরতার জন্য সমালোচিত, যা প্রায়শই বড় পরামর্শকদের দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং সামাজিক আবাসন-এর মতো স্থানীয় প্রয়োজনগুলিকে সমাধান না করে পুঁজি-নিবিড় সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়।
এই টপ-ডাউন মডেল একটি "প্রযুক্তিগত ব্যবধান" তৈরি করে, যেখানে শীর্ষ নীতি নির্ধারকরা, নির্দিষ্ট দক্ষতার অভাবে, গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি আউটসোর্স করে এবং স্থানীয় জ্ঞানকে উপেক্ষা করে। বাস্তবায়ন-সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ফ্রন্টলাইন কর্মীদের উপর বিধিনিষেধ অবিশ্বাস এবং জবাবদিহিতার অভাবের সংস্কৃতি তৈরি করে।
এই বিচ্ছিন্নতার পরিণতি: বাস্তবতা থেকে ক্ষমতাকে বিচ্ছিন্ন করা সরাসরি উন্নয়নের উদ্দেশ্যগুলিকে ব্যর্থ করে। জোশীমঠের দেবে যাওয়া একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যেখানে ১৯৭৬ সালের একটি প্রতিবেদন (তথ্যের উৎস) এলাকার ভঙ্গুরতা তুলে ধরার পরেও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা বড় আকারের নির্মাণের অনুমোদন দেয়, যা একটি পূর্বাভাসযোগ্য বিপর্যয়ের দিকে পরিচালিত করে। ব্রহ্মപുরমের মতো কেন্দ্রীভূত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমাধানের ব্যর্থতা, বিকেন্দ্রীভূত, স্থানীয়-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলির সাফল্যের বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।
এগিয়ে যাওয়ার পথ: বিকেন্দ্রীকরণ এবং ক্ষমতায়ন: সমাধান নিহিত আছে একটি বিকেন্দ্রীভূত, বটম-আপ (bottom-up) মডেলের দিকে এগোনোর মধ্যে, যা গ্রামসভা এবং ফ্রন্টলাইন কর্মীদের "স্থানীয় জ্ঞান"-কে মূল্য দেয়। এর জন্য পঞ্চায়েতের মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে কাজ, তহবিল এবং কর্মী দিয়ে ক্ষমতায়ন করা প্রয়োজন, কিন্তু রাজ্যগুলির ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহার কারণে এই প্রক্রিয়াটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
তবে, শুধুমাত্র বিকেন্দ্রীকরণই সর্বরোগহর নয়; স্থানীয় সরকারগুলির তহবিল এবং প্রকল্পগুলি কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য পেশাদার দক্ষতার অভাব থাকতে পারে, তাই এটিকে সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে যুক্ত করতে হবে। প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে ফ্রন্টলাইন কর্মীদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ এবং স্থানীয় শাসনের পেশাদারিকরণের উপর, যা নিশ্চিত করে যে সমস্যা এবং সমাধান যেখানে উদ্ভূত হয়, সেখানেই সমস্যা-সমাধান হয়।
18. The National Commission for Protection of Child Rights has to address the challenges faced by children in the digital era. Examine the existing policies and suggest measures the Commission can initiate to tackle the issue. (Answer in 250 words) – 15
ভূমিকা: ডিজিটাল যুগ শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সাইবারবুলিং, অনলাইন নির্যাতন, ডিজিটাল আসক্তি এবং শিশু যৌন নির্যাতন সামগ্রী (CSAM) সহ বহুমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR), দেশের সর্বোচ্চ শিশু অধিকার সংস্থা হিসেবে, এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিদ্যমান নীতি এবং ফাঁক: ভারতে পকসো (POCSO) আইন, ২০১২ এবং তথ্য প্রযুক্তি (IT) আইন, ২০০০-এর মতো একাধিক আইনি কাঠামো রয়েছে। নতুন ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা (DPDP) আইন, ২০২৩, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য যাচাইযোগ্য পিতামাতার সম্মতি বাধ্যতামূলক করেছে।
তবে এই নীতিগুলিতে ফাঁক রয়েছে। কম ডিজিটাল সাক্ষরতার দেশে পিতামাতার সম্মতির উপর DPDP আইনের নির্ভরতা একটি চ্যালেঞ্জ, যা প্ল্যাটফর্মগুলির দায়িত্ব পিতামাতার উপর চাপিয়ে দেয়। বিদ্যমান আইনগুলি প্রায়শই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সৃষ্ট ডিপফেক এবং ক্রমবর্ধমান অনলাইন শিশু নির্যাতন সামগ্রীর মতো নতুন হুমকির মোকাবিলায় অপর্যাপ্ত। উপরন্তু, "শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ" নীতি, যা ভারত অন্যান্য আইনে সমর্থন করেছে, তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে পর্যাপ্তভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
NCPCR দ্বারা গৃহীত পদক্ষেপ: কমিশন নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি শুরু করতে পারে:
নীতিগত সুপারিশ: NCPCR-এর উচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সৃষ্ট CSAM-এর মতো নতুন যুগের হুমকি মোকাবিলায় আইটি আইন এবং পকসো আইনের সংশোধনের জন্য সওয়াল করা। এটি পিতামাতার সম্মতি মডেল থেকে ঝুঁকি-ভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিবর্তনের উপর জোর দেওয়া উচিত। যুক্তরাজ্যের 'বয়স-উপযুক্ত ডিজাইন কোড'-এর মতো আন্তর্জাতিক মডেল অনুসরণ করে, প্ল্যাটফর্মগুলিকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে এবং 'ডিজাইন দ্বারা সুরক্ষা' (safety-by-design) বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য করা উচিত।
নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা: কমিশন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের জন্য ডিজিটাল সুরক্ষা, বিষয়বস্তু সংযম এবং নৈতিক অনলাইন আচরণের উপর বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা জারি করতে পারে।
অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ: অনলাইন নির্যাতন ও শোষণের মামলা দক্ষতার সাথে পরিচালনা করার জন্য এর 'ই-বাল নিদান' অনলাইন অভিযোগ পোর্টাল এবং পকসো ই-বক্সকে উন্নত করা উচিত।
সচেতনতা এবং পর্যবেক্ষণ: শিশু এবং অভিভাবকদের জন্য দেশব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা কর্মসূচী চালু করা এবং সম্মতি পর্যবেক্ষণের জন্য তার বিধিবদ্ধ ক্ষমতা ব্যবহার করা।
উপসংহার: NCPCR-এর নেতৃত্বে একটি সক্রিয়, বহু-অংশীজন ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহিতা, শক্তিশালী আইনি কাঠামো এবং ডিজিটাল সাক্ষরতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, ভারতের শিশুদের জন্য ডিজিটাল বিশ্বকে নিরাপদ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
19. “Energy security constitutes the dominant kingpin of India’s foreign policy, and is linked with India’s overarching influence in Middle Eastern countries.” How would you integrate energy security with India’s foreign policy trajectories in the coming years? (Answer in 250 words) – 15
শক্তি নিরাপত্তা ভারতের বিদেশনীতির মূল ভিত্তি, যা প্রধানত উচ্চ আমদানি নির্ভরতার কারণে চালিত হয়। যদিও মধ্যপ্রাচ্য একটি প্রধান হাইড্রোকার্বন সরবরাহকারী, তবে এর ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা একটি দূরদর্শী ও সমন্বিত শক্তি কৌশলের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। আগামী বছরগুলিতে, ভারতের বিদেশনীতি শক্তি নিরাপত্তাকে একটি বহুমুখী পদ্ধতির মাধ্যমে একীভূত করবে।
প্রথমত, শক্তির উৎস এবং প্রকারের বৈচিত্র্যায়ন। এর মধ্যে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হ্রাস করা, যার জন্য ইউক্রেন সংঘাতের পর শীর্ষ তেল সরবরাহকারী হয়ে ওঠা রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (তেল, এলএনজি এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য) সঙ্গে শক্তি সম্পর্ক জোরদার করা হবে। ভারত হাইড্রোকার্বন সম্পদের জন্য ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার সঙ্গেও সম্পৃক্ততা গভীর করবে। এই বৈচিত্র্যময় অংশীদারিত্ব একটি বহুমাত্রিক বিশ্বে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার জন্য মৌলিক।
দ্বিতীয়ত, বিশ্বব্যাপী সবুজ শক্তি পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেওয়া। ভারতের বিদেশনীতি আন্তর্জাতিক সৌর জোট (ISA)-এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সফট পাওয়ার প্রদর্শন এবং টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য পরিচালিত হবে। জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতকে গ্রিন হাইড্রোজেনের একটি বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কূটনীতি ব্যবহার করা হবে। বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ব্যাটারির জন্য প্রয়োজনীয় লিথিয়াম ও কোবাল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা কোয়াডের মতো কাঠামোর মাধ্যমে একটি মূল উদ্দেশ্য হবে, যা চীনের ওপর নির্ভরতা কমাবে।
তৃতীয়ত, শক্তি-কেন্দ্রিক সংযোগ স্থাপন। বিদেশনীতি ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (IMEC), যা শক্তি পাইপলাইনের সংস্থান অন্তর্ভুক্ত করে, এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক শক্তি গ্রিডের মতো প্রকল্পগুলিকে সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করবে।
এই সমন্বিত কৌশল ভারতকে একটি নিষ্ক্রিয় শক্তি ক্রেতা থেকে সক্রিয় নেতায় রূপান্তরিত করে, যা তার শক্তির প্রয়োজনগুলিকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে, গ্লোবাল সাউথের জন্য টেকসই উন্নয়নকে সমর্থন করতে এবং পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি প্রধান খেলোয়াড় হিসাবে তার ভূমিকা সিমেন্ট করতে ব্যবহার করে।
20. “The reform process in the United Nations remains unresolved, because of the delicate imbalance of East and West and entanglement of the USA vs. Russo-Chinese alliance.” Examine and critically evaluate the East-West policy confrontations in this regard. (Answer in 250 words) – 15
জাতিসংঘের (UN) সংস্কার প্রক্রিয়া, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) সংক্রান্ত বিষয়ে, পূর্ব (রুশ-চীন জোট) এবং পশ্চিম (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের) মধ্যে গভীর নীতিগত সংঘাতের কারণে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এই ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ জাতিসংঘের মূল সংস্থাগুলোকে অনেকাংশে অকার্যকর করে দিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষাঘাত: এই সংঘাতের প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা পরিষদ, যা এটিকে "পঙ্গু" করে দিয়েছে। স্থায়ী পাঁচ (P-5) সদস্য রাষ্ট্র তাদের বা তাদের মিত্রদের কৌশলগত স্বার্থের বিরুদ্ধে প্রস্তাবগুলো ব্লক করতে ক্রমাগত তাদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে। ইউক্রেন সংকট এর একটি প্রধান উদাহরণ, যেখানে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো ভেটো দিয়েছে, যখন পশ্চিমা সদস্যরা পাল্টা প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিয়েছে, যার ফলে একটি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। একইভাবে, চীন বারবার ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তি আটকে দেয়, যা সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থার রাজনীতিকরণের উদাহরণ।
বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক অচলাবস্থা: এই সংঘাত জাতিসংঘের বাইরেও প্রসারিত হয়ে জি-২০-এর মতো অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জি-২০ সভাগুলো ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কিত ভাষা নিয়ে রুশ-চীন জোটের আপত্তির কারণে বারবার যৌথ ইশতেহার প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে। এটি একটি কঠোর "ঠান্ডা যুদ্ধের মানসিকতা" প্রতিফলিত করে যা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশ্বব্যাপী ঐকমত্যকে বাধাগ্রস্ত করে।
সংস্কারের কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা: সংস্কার প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবেই আটকে আছে কারণ যেকোনো পরিবর্তনের জন্য P-5-এর মধ্যে ঐকমত্য প্রয়োজন, যারা তাদের ১৯৪৫-পরবর্তী ক্ষমতা হ্রাস করার বিষয়ে "ঐতিহাসিকভাবে উত্সাহী নয়"। জাতিসংঘের সাধারণ সভাও বিভক্ত হওয়ায় সমস্যাটি আরও জটিল হয়েছে, যেখানে পাঁচটি প্রতিযোগী আলোচনা গোষ্ঠী একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, যা যেকোনো সংস্কার প্রস্তাবের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা গঠনকে বাধা দেয়।
উপসংহার: পূর্ব-পশ্চিম সংঘাত জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি সংকট তৈরি করেছে। এই অচলাবস্থা কেবল নীতিগত পার্থক্যের বিষয় নয়, বরং এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য একটি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। এই অমীমাংসিত অচলাবস্থা জাতিসংঘকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করে এবং জি-২০-এর মতো আরও প্রতিনিধিত্বমূলক ফোরামের জন্য পথ তৈরি করতে পারে।